লন্ডন

Article on other languages:

লন্ডন
বৃহত্তর লন্ডন
টাওয়ার সেতু, লন্ডনের একটি স্থাপত্য
টাওয়ার সেতু, লন্ডনের একটি স্থাপত্য
ইংল্যান্ডের মধ্যে বৃহত্তর লন্ডনকে দেখানো হয়েছে
ইংল্যান্ডের মধ্যে বৃহত্তর লন্ডনকে দেখানো হয়েছে
Coordinates: 51°30′28″N 00°07′41″W / 51.50778, -0.12806
সার্বভৌম রাজ্য যুক্তরাজ্য
সাংবিধানিক রাষ্ট্র ইংল্যান্ড
ধর্ম বৃহত্তর লন্ডন
জেলসমূহ সিটি এবং ৩২টি বরো
Settled by Romans as Londinium ca. AD 50
Government
 - আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষ বৃহত্তর লন্ডন কর্তৃপক্ষ
 - আঞ্চলিক এসেম্বলি লন্ডন এসেম্বলি
 - মেয়র কেন লিভিংস্টোন
 - সদর দপ্তর সিটি হল
 - যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট
 - লন্ডন অ্যাসেম্বলি
 - ইউরোপীয় পার্লামেন্ট
74 constituencies
14 constituencies
London constituency
Area
 - Greater London ৬০৯ sq mi (১,৫৭৭.৩ km²)
Elevation [১] Template:Lengthdisp
Population (2006 est.)[২][৩][৪][৫]
 - Greater London ৭,৫১২,৪০০
 - Density ১২,৩৩১/sq mi (৪,৭৬১/km²)
 - Urban ৮,৫১৫,০০০
 - Metro ১২ to ১৪ million
 - Demonym Londoner
 - Ethnicity
(2001 Census)
৫৯.৮% White British
১১.৪% Other White
১২.১% Asian or British Asian
১০.১% Black or Black British
৩.২% Mixed Race
২.৭% Chinese or Other Ethnic Group
Time zone GMT (UTC0)
 - Summer (DST) BST (UTC+1)
Website: http://www.london.gov.uk

লন্ডন (ইংরজি London লান্ড্‌ন, আন্তর্জাতিক ধ্বনিমূলক বর্ণমালায় [ˈlʌndən]) যুক্তরাজ্যের রাজধানী এবং পৃথিবীর অন্যতম বৃহত্তম শহর। এটি ইংল্যান্ডের টেম্‌স্‌ নদীর তীরে অবস্থিত। প্রায় ৭০ লক্ষ লকের বসতি এই লন্ডন সপ্তদশ শতক থেকেই ইউরোপে তার প্রথম স্থান বজায় রেখে আসছে। উনবিংশ শতাব্দীতে এটিই ছিল বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শহর। কারণ তখন বিশ্বের উল্লেখযোগ্য সকল স্থানই ছিল ব্রিটিশ রাজত্বের অধীন আর লন্ডন ছিল সেই রাজত্বের রাজকীয় ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র। বর্তমান যুগেও লন্ডন পৃথিবীর অন্যতম প্রধান অর্থ-বাণিজ্য ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকে।

মূল শহর ও মেট্রোপলিটান অঞ্চল

লন্ডনের দুটি দূরবর্তী বিন্দুর মধ্যবর্তী সর্বোচ্চ দূরত্ব প্রায় ৩০ মাইল। এর আয়তন ১৬১০ বর্গ কিমি (৬২০ বর্গ মা)। এই সুবৃহৎ শহরাঞ্চলটি ৩৩টি রাজনৈতিক এককে বিভক্ত। কেন্দ্রে অবস্থিত সিটি অফ লন্ডন ছাড়াও রয়েছে অধীনস্থ ৩২টি বরো। কেন্দ্রীয় অঞ্চলটিকে মধ্য লন্ডন নামে ডাকা হয় যার বেশির ভাগ অঞ্চলই টেম্‌স নদীর উত্তরে একটি মৃদুমন্দ ঢালু এলাকায় অবস্থিত। এই ঢালুটি আবার আরও উত্তর দিকে গিয়ে উঠতে শুরু করেছে। ৩৩টি রাজনৈতিক এককের মধ্যে ১২টিই এই মধ্যভাগে অবস্থিত যার মধ্যে রয়েছে সিটি অফ লন্ডন, সিটি অফ ওয়েস্টমিন্‌স্টার এবং পশ্চিম প্রান্তের জেলাসমূহ। সিটি অফ লন্ডন হচ্ছে লন্ডন শহরের প্রথাগত ও রাজনৈতিক কেন্দ্র আর সিটি অফ ওয়েস্টমিন্‌স্টার হল জাতীয় সরকারের দফ্‌তর ও মূল আসন। যতই প্রান্তের দিকে যাওয়া যায় জীবনযাত্রার উচ্চ মান ও চাকচিক্য ততই কমতে থাকে।

  • সিটি অফ লন্ডন: লন্ডনের সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই অঞ্চলটির আয়তন খুবই কম, মাত্র ২.৬ বর্গ কিমি। একেবারে কেন্দ্রভাগে অবস্থিত এই অঞ্চলটি এখনও মূল শহর হিসেবে পরিচিত। আশেপাশের বৃহত্তর মেট্রোপলিটান অঞ্চল থেকে পৃথক করার জন্য এই অংশকে অতি মাত্রায় পূজিবাদী ধনিকদের বাসস্থান হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। ৫০ সালের দিকে এই অংশেই লন্ডন একটি রোমান ঔপনিবেশিক শহর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। লন্ডনে রোমানদের নির্মীত প্রথম সেতুকে কেন্দ্র করে এটি প্রতিষ্ঠা লাভ করেছিল। বর্তমানে লন্ডনের সকল বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হল এই কেন্দ্রীয় শহরের থ্রেডনিড্‌ল স্ট্রিট যা ব্যাংক নামে পরিচিত এলাকায় অবস্থিত। এই এলাকায় রয়েছে বিখ্যাত ব্যাংক অফ ইংল্যান্ড ভবন, রয়েল এক্সচেঞ্জ এবং স্টক এক্সচেঞ্জ। এখানকার স্থায়ী জনসংখ্যা মাত্র ৬,০০০ কিন্তু বিভিন্ন ব্যবসায়িক ও দাপ্তরিক কাজের উদ্দেশ্যে প্রতিদিন এখানে প্রায় ৩৫০,০০০ লোকের আগমন ঘটে। শহরের উত্তর প্রান্তে অবস্থিত বার্বিকান সেন্টার এখানকার একমাত্র আবাসিক এলাকা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মানদের গোলার আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত শহরের দালানগুলোকে প্রতিস্থাপিত করার উদ্দেশ্যে বার্বিকান তৈরী করা হয়েছিল। এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপত্য হচ্ছে সেন্ট পলের ক্যাথেড্রাল। ইংরেজ স্থপতি ক্রিস্টোফার রেন এর নকশা করেছিলেন। এছাড়া টাওয়ার অফ লন্ডন বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
  • সিটি অফ ওয়েস্টমিন্‌স্টার: সিটি অফ লন্ডন থেকে প্রায় ২ মাইল উপরের দিকে সিটি অফ ওয়েস্টমিন্‌স্টার অবস্থিত। একাদশ শতাব্দীর পর থেকে লন্ডনের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্র পরিণত হয় এই শহরটি। শহরের কেন্দ্র জুড়ে রয়েছে ওয়েস্টমিন্‌স্টার অ্যাবেএডওয়ার্ড দ্য কনফেসর একাদশ শতকে এই বৃহৎ গীর্জার নির্মাণকাজ শুরু করেন এবং ত্রয়োদশ শতকে এটি পুনর্নিমাণ করা হয়। ব্রিটেনের রাজতন্ত্রের সাথে এর যোগাযোগ তখন থেকেই। বিভিন্ন রাজকীয় অনুষ্ঠান এবং শেষকৃত্য এখানেই সম্পন্ন হয়ে থাকে। একে সমাধিস্থল হিসেবেও ব্যবহার করা হয় ৩০০০-এরও অধিক গুরুত্বপূর্ণ ও নামী-দামী লোকের সমাধি এখানে অবস্থিত। এর পাশের রাস্তা ধরে অবস্থিত হাউজ অফ পার্লামেন্ট যাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে নিউ প্যালেস অফ ওয়েস্টমিন্‌স্টার নামে ডাকা হয়। আরও পশ্চিমে গেলে পাওয়া যায় ব্রিটেনের রাজার স্থায়ী সরকারী বাসভবন যার নাম বাকিংহাম প্রাসাদ। উত্তরে রয়েছে ট্রাফালগার স্কোয়ার যা লন্ডনের অবশিষ্ট পশ্চিমাংশের সাথে ওয়েস্টমিন্‌স্টারের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় যোগসূত্র স্থাপন করেছে।
  • পশ্চিম প্রান্ত: ট্রাফালগার স্কোয়ারের পশ্চিম এবং উত্তরে লন্ডনের পশ্চিম প্রান্ত অবস্থিত। দৈনন্দিন বাজার-সদাই এবং বিনোদনের প্রধান কেন্দ্র হওয়ায় একে অনেক সময় লন্ডনের কেন্দ্র বলা হয়ে থাকে। এখানকার ব্যস্ততম বাজার এলাকা হচ্ছে অক্সফোর্ড স্ট্রিট যেখানে সেলফ্রিজেস, জন লুই এবং মার্ক ও স্পেন্সারের মত বড় বড় ডিপার্টমেন্টাল স্টোর রয়েছে। এছাড়াও নাইট্‌সব্রিজ এবং পিকাডিলিতে বেশ কিছু দোকান রয়েছে। পিকাডিলির উত্তর-পূর্বে অবস্থিত সোহো এবং কনভেন্ট গার্ডেন সেকশনে বিনোদনের প্রধান কেন্দ্রগুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। সোহো এবং কনভেন্ট গার্ডেন সপ্তদশ শতকে আবাসিক এলাকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে এখানে দোকানপাট, নাট্যমঞ্চ এবং বিনোদন কেন্দ্র গড়ে উঠে। রাজকীয় অপেরা হাউজ এবং লন্ডনের ৪০টির-ও অধিক প্রধান নাট্যমঞ্চ এখানে অবস্থিত। এছাড়াও রয়েছে প্রচুর দোকানপাট, রেস্তোঁরা এবং বার। সোহো এবং কনভেন্ট হাউজের ঠিক পশ্চিমের অঞ্চলটি অপেক্ষাকৃত আবাসিক। তবে এখানেই হাইড পার্ক, কেনিংসটন গার্ডেন্‌স এবং রিজেন্ট্‌স পার্কের মত রাজকীয় পার্কগুলোর অবস্থান। পশ্চিম প্রান্তের উত্তর অংশে রয়েছে বিখ্যাত ব্রিটিশ জাদুঘর এবং লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়। এই উত্তর অংশটি শহরের বুদ্ধিজীবী ও লেখক-সাহিত্যিক মহলের আড্ডাখানা। বিংশ শতাব্দীর প্রথমভাগে এখানে বসবাসকারী লেখকদের যে সার্কেল গড়ে উঠেছিল তা ব্লুম্‌সবারি গ্রুপ নামে পরিচিত।
  • পূর্ব প্রান্ত এবং ডকল্যান্ডসমূহ: সিটি অফ লন্ডন এবং লন্ডন টাওয়ার পেরিয়েই লন্ডনের পূর্ব প্রান্তের অবস্থান। এখানের মূল স্থাপনা হচ্ছে লন্ডনের সব নৌ-বন্দর এবং জাহাজঘাট। এছাড়া অভিবাসীদের আবাস হিসেবেও স্থানটি পরিচিত। বস্তি অঞ্চল, দারিদ্র্য এবং সন্ত্রাসের কারণে এ স্থান কুখ্যাত। এই অঞ্চলেই দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী জ্যাক দ্য রিপারের আবির্ভাব ঘটেছিল। এখানকার বেথনালে গ্রিনে ভিক্টোরীয় যুগ থেকেই বস্তি অঞ্চল রয়ে গেছে। গরিব অভিবাসীদের বাসস্থান হলেও সাপ্তাহিক ছুটির সময়ে এখানকার রাস্তার পাশের বাজার বিখ্যাত হয়ে উঠে। বিশেষত মিড্‌লসেক্স স্ট্রিট জুড়ে অবস্থিত পেটিকোট লেনের বাজার পরিচিতি লাভ করেছে। জাহাজঘাটসমূহের প্রাণকেন্দ্র হচ্ছে আইল অফ ডগ্‌স যেখানে একসময় রাজকীয় কেনেল অবস্থিত ছিল। বর্তমানে প্রাচীন ডকইয়ার্ডসমূহ প্রতিস্থাপন করে নতুন জাহাজঘাট গড়ে তোলা হচ্ছে। ঘনবসতিপূর্ণ লন্ডনের উপর থেকে বাণিজ্যিক চাপ কমানোর জন্যই এই ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে মনে হয়।
  • উত্তর লন্ডন:উনবিংশ শতাব্দী নাগাদ উত্তর লন্ডনে কিছু বিচ্ছিন্ন গ্রাম ছাড়া আর কিছু ছিলনা। পাতাল রেলপথ তথা টিউব স্থাপনের পর এখানে উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি হয়। রিজেন্ট্‌স ক্যানালে অবস্থিত ক্যামডেন টাউনে শহরের সবচেয়ে কমদামী পণ্যের বাজার রয়েছে। এখানে স্বল্প মূল্যে গহনা এবং পোশাক পাওয়া যায়। আরও উত্তরে গেলে পাওয়া যায় লন্ডনের সবচেয়ে খানদানী গ্রামগুলো। যেমন হ্যাম্পস্টিড (বিখ্যাত লেখকদের কেন্দ্রভূম) এবং হাইগেট (যেখানে লন্ডনের সবচেয়ে পরিচিত সমাধিস্থল অবস্থিত)। এখানকার সমাধিস্থলে কার্ল মার্ক্সের একটি বড় মূর্তি রয়েছে। উত্তর লন্ডনের একেবারে কেন্দ্রে রয়েছে ৮০০ একর আয়তন বিশিষ্ট [[হ্যাম্পস্টিড] হিথ]] নামক সুবৃহৎ পাবলিক পার্ক।
  • দক্ষিণ লন্ডন: টেম্‌স নদীর দক্ষিণ অংশ অনেক আগে থেকেই লন্ডন শহর থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আছে। এখানে শহরের অখ্যাত সব বিনোদন কেন্দ্র যেমন পতিতালয়, বার এবং নাট্যমঞ্চ রয়েছে যেগুলো শহরের এখতিয়ার বহির্ভূত। অখ্যাত ব্যাংকসাইড থেকে সামান্য দূরে অবস্থান করছে সাউথওয়ার্ক ক্যাথেড্রাল যা ত্রয়োদশ শতকে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ব্যাংকসাইডে মোরগ লড়াই এবং বেয়ার বেইটিংয়ের মত নিষ্ঠুর খেলাগুলো অনুষ্ঠিত হয়। এই ব্যাংকসাইডেই এলিজাবেথীয় নাট্যমঞ্চগুলো অবস্থিত। অপরাধ প্রবণতার দায়ে এগুলোকে মূল শহরের ভিতরে স্থাপন করতে দেয়া হতো না। এই নাট্যমঞ্চগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত গ্লোব থিয়েটার যেখানে উইলিয়াম শেক্সপিয়ার তার অধিকাংশ নাটক মঞ্চস্থ করেছিলেন। সম্প্রতি এই নাট্যমঞ্চটির সংস্কার করা হয়েছে।

ইতিহাস

এই বিষয়ে মূল নিবন্ধের জন্য দেখুন: লন্ডনের ইতিহাস

রোমান এবং স্যাক্সন যুগ

৪৩ খ্রিস্টাব্দে রোমানরা ব্রিটেন দখল করে পূর্ব ইংল্যান্ডের কোলচেস্টারে তাদের প্রাদেশিক রাজধানী স্থাপন করে। কোলচেস্টার যাবার পথ তৈরীর উদ্দেশ্যে তারা টেম্‌স নদীর উপর একটি সেতু নির্মাণ করে এবং সেতুর এপারে লন্ডিনিয়াম শহরের পত্তন ঘটায়। সাধারণ রোমান ঔপনিবেশিক শহরগুলোর মতই সে শহরে দুইটি প্রধান সড়ক ছিল যে দুটি বৃহৎ ব্যাসিলিকাতে এসে মিলিত হয়েছে। এই ব্যাসিলিকার স্থানে এখন ব্যাংক অফ ইংল্যান্ড অবস্থিত। ২০০ সাল নাগাদ তারা এই শহরের চারপাশে একটি দেয়াল নির্মাণ করার মাধ্যমে পরবর্তীতে সিটি অফ লন্ডন হিসেবে পরিচিত এলাকার সীমানা নির্ধারণ করে।

এই নিবন্ধটি অসম্পূর্ণ। আপনি চাইলে এটিকে সমৃদ্ধ করতে পারেন

This article is from Wikipedia. All text is available under the terms of the GNU Free Documentation License.